কোরবানির ঈদে আনন্দের পাশাপাশি থাকে কিছু বাড়তি দায়িত্ব। যেমন-পশু কেনা, কোরবানি দেওয়া, ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করাসহ নানা ঝামেলা। কিছু বিষয় আগে থেকে জানা থাকলে এসব ঝামেলার অনেকটাই এড়ানো যায় সহজে। তাই আপনাদের জন্য থাকছে বেশ কিছু কার্যকর টিপস। পরামর্শ দিয়েছেন কৃষি অধিদপ্তরের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা· আবদুল বাকী।

* কোরবানির পশু কিনতে যাওয়ার সময় পশু বিষয়ে অভিজ্ঞ কাউকে সঙ্গে নিতে পারলে ভালো, তিনি পশু চিনে কিনতে পারেন।

* হাট থেকে পশু বাড়িতে আনার জন্য একজন শক্তসমর্থ লোককে সঙ্গে নিন, যিনি পশু বাড়িতে আনতে সাহায্য করতে পারবেন।

* হাটে যাওয়ার সময় টাকা-পয়সা সাবধানে রাখবেন।

* পশু কিনতে যাওয়ার সময় ভালো পোশাক না পরাই ভালো। দাগ বা ময়লা লাগার আশঙ্কাই বেশি।

* হাতে সময় নিয়ে পশুর হাটে যাওয়া উচিত। এতে ধীরেসুস্থে, দেখেশুনে পশু কিনতে পারবেন।

* খাজনার (হাসিল) হাত থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য হাটের বাইরে থেকে পশু কিনবেন না। এতে লাভবান হওয়ার চেয়ে চোরাই পশু কেনার আশঙ্কা থাকে বেশি।

* হাটের খাজনা ঠিকমতো পরিশোধ করুন।

* পশুর বয়স সম্পর্কে জেনে নিন। কেননা গরু দুই বছর এবং ছাগলের ন্যূনতম বয়স ছয় মাস না হলে কোরবানি আদায় হবে না।

* বাহ্যিকভাবে দেখতে সুস্থ-সবল, নীরোগ পশু কিনুন। রোগবালাই আছে কি না দেখে নিন।

* চামড়ায় কাটা ক্ষত দেখে নিতে হবে। দেখতে হবে কান কাটা, শিং ভাঙা, লেজ কাটা, খুরের মধ্যে ক্ষত বা জিহ্বায় ঘা আছে কি না।

* পশুর মুখের সামনে খাবার ধরলে যদি জিহ্বা দিয়ে টেনে নেয় এবং নাকের ওপরটা ভেজা ভেজা থাকে তাহলে বুঝতে হবে গরু সুস্থ। অসুস্থ পশু খাবার খেতে চায় না।

* গাভি বা বকনা গরু না কেনাই ভালো। নিতান্তই কিনতে হলে পশুচিকিৎসকের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে পশুটি গর্ভবতী কি না। গর্ভবতী পশু কোরবানি হয় না।

* গরুর কুঁজ মোটা টানটান হলে গরু সতেজ, সুস্থ হয়।

* পশু কিনেই হাট থেকে পশুর জন্য খাবার কিনে ফেলুন।

* হাট থেকে পশু আনার সময় পাটের দড়ি দিয়ে পশুকে ভালোভাবে বেঁধে আনুন। না হলে পশু গাড়ির শব্দে ভয় পেয়ে দৌড় দিতে পারে।

* কোরবানির আগেই কসাই ঠিক করে রাখুন, না হলে ঝামেলা পোহাতে হতে পারে।

* মাংস কেটে রাখার জন্য পরিষ্কার চাটাই সংগ্রহে রাখুন।

* কোরবানিতে ব্যবহারের জন্য ছুরি, দা, বঁটিতে ধার দিয়ে রাখুন।

* কোরবানির মাংস সমভাবে বণ্টনের জন্য আগে থেকে দাঁড়িপাল্লা জোগাড় করে রাখুন।

* মাটিতে পড়ে থাকা পশুর রক্তে ছিটানোর জন্য ব্লিচিং কিনে রাখুন।

* জবাই করার আগে পশুকে ভালোভাবে গোসল করাতে হবে এবং প্রচুর পরিমাণে পানি খাওয়াতে হবে। এতে চামড়া ছাড়ানো সহজ হয়।

* পশু মাটিতে শোয়ানোর সময় লক্ষ করতে হবে দেহে যেন কোনো প্রকার চোট না লাগে। এতে চামড়া থেঁতলে অথবা ছিড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

* চামড়া ছাড়ানোর জন্য মাথা বাঁকানো অর্থাৎ ইংরেজি ‘ইউ’ অক্ষর আকারের ছুরি ব্যবহার করতে হবে।

* কোরবানির পশু বাড়ির পাশে ফাঁকা জায়গায় জবাই করুন।

* জবাই করার পর রক্ত, মলমূত্র, হাড়, বর্জ্য ইত্যাদি যেখানে-সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখবেন না। এতে পরিবেশ দূষিত হবে।

* পশুর রক্ত ও বর্জ্য মাটির গর্তে পুঁতে ফেলুন।

* রক্ত ছড়িয়ে থাকা স্থানে পানি দিয়ে ধুয়ে ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে দিন।

**************************
নকশা, দৈনিক প্রথম আলো, ১৮ ডিসেম্বর ২০০৭